Header Ads

yX Media - Monetize your website traffic with us

আপনার চিন্তা কি সত্যিই যৌক্তিক? | যুক্তি ও কুযুক্তির ধোঁকা চিনুন


আপনি কি জানেন, প্রতিদিন আপনাকে বোকা বানানো হচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের আড্ডাসব জায়গায়। কেউ একজন খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে একটা ভুল কথা বলে গেল, আর আপনি সেটা মেনে নিলেন, শুধু কারণ তার গলার জোর বেশি ছিল।

কেন এমন হয়? কারণ, আমরা 'যুক্তি' বা 'লজিক' কী, তা আসলে বুঝি না। আমরা কুযুক্তিকে যুক্তি মনে করি।

আজকের এই ভিডিওটি আপনার চিন্তার জগতকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। আমরা শিখব কীভাবে ব্রেনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করতে হয়। ৩০ মিনিট সময় দিন, আমি কথা দিচ্ছি, এই ভিডিও দেখার পর কেউ আপনাকে সহজে কথায় হারাতে পারবে না।

ভিডিওর মূল অংশে যাওয়ার আগে আমার আপনাকে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার আছে। উত্তর দেওয়ার দরকার নেই, শুধু ভাবুন।

  • আপনি যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন, কেন করেন? যুক্তি দিয়ে, নাকি আবেগে?
  • আপনি যে ধর্ম বা বিশ্বাস লালন করেন, তার পক্ষে আপনার কাছে কি এমন কোনো প্রমাণ আছে যা অন্য ধর্মের মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে?
  • আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলো কি সত্যিই আপনি নিয়েছেন, নাকি পরিস্থিতি আপনাকে নিতে বাধ্য করেছে?

[সামান্য পজ]

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্যই আমাদের 'যুক্তি' বা Logic প্রয়োজন।

তাহলে, সহজ কথায় যুক্তি কী? যুক্তি কোনো রকেট সায়েন্স নয়। এটি হলো সত্য খুঁজে বের করার একটা টুলবক্স বা পদ্ধতি। এটি এমন একটা প্রসেস যা বিভিন্ন তথ্য বা প্রস্তাবনাকে প্রসেসিং করে একটা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

আমরা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, এমনকি আদালতের কাঠগড়া পর্যন্তসব জায়গায় যুক্তি ব্যবহার করি। এর মূল উদ্দেশ্য একটাইআমাদের এলোমেলো চিন্তাকে শৃঙ্খলা দেওয়া এবং ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচানো। কিন্তু সমস্যা হলো, আসল যুক্তির চেহারা ধরে আমাদের সামনে প্রায়ই হাজির হয়কুযুক্তি

ধরুন, আপনার হাতে একটা আসল ৫০০ টাকার নোট আছে, আর একটা জাল নোট আছে। দেখতে প্রায় একই রকম, কিন্তু একটার ভ্যালু আছে, অন্যটার নেই।

যুক্তি (Logic) হলো সেই আসল নোট। এটি চিন্তাভাবনার এক নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। এর লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক এবং সত্যের সাথে মিল রেখে একটা নির্ভরযোগ্য উপসংহারে পৌঁছানো।

অন্যদিকে, কুযুক্তি বা Fallacy (ফ্যালাসি) হলো সেই জাল নোট। এটি এক ধরনের ত্রুটিপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর যুক্তি। শুনতে খুব স্মার্ট মনে হতে পারে, মনে হতে পারে "বাহ! কী পয়েন্ট দিল!", কিন্তু বাস্তবে এটি ভুল বা অসঙ্গত। কুযুক্তি এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানে, যা যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রথম কাজ হলো, কোনটা আসল যুক্তি আর কোনটা চতুর কুযুক্তিসেটা ধরতে পারা। কিন্তু সেটা ধরব কীভাবে? একটা পারফেক্ট যুক্তির রেসিপি কী? চলুন জেনে নিই।

একটি সলিড বা শক্তিশালী যুক্তির তিনটি মৌলিক গুণ থাকতেই হবে। এই তিনটি ফিল্টার পার হলেই কেবল তাকে আমরা সঠিক যুক্তি বলতে পারি।

প্রথম গুণ: সংগতি (Consistency) খুব সহজ। আপনার বক্তব্যগুলো একে অপরের সাথে মারামারি করতে পারবে না। অর্থাৎ, সাংঘর্ষিক হওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় গুণ: বৈধতা (Validity) এটি যুক্তির কাঠামো বা স্ট্রাকচারের সাথে সম্পর্কিত। যদি আপনার দেওয়া তথ্যগুলো বা পূর্বধারণাগুলো সত্য হয়, তবে আপনার সিদ্ধান্তটিও অনিবার্যভাবে সত্য হতে হবে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ: যথার্থতা (Soundness) এটি হলো যুক্তির গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড। একটি যুক্তি তখনই যথার্থ হবে যখনএক, যুক্তির কাঠামোটি বৈধ হবে, এবং দুই, আপনি যে তথ্যগুলো দিচ্ছেন সেগুলো বাস্তবেও সত্য হবে।

এই তিনটি বিষয় একটু জটিল মনে হতে পারে। বিশেষ করে 'বৈধতা' এবং 'যথার্থতা' পার্থক্য। আসুন, উদাহরণ দিয়ে এই জট খোলা যাক। পরের অংশে আমরা দেখব, কীভাবে একটা যুক্তি দেখতে সঠিক মনে হলেও আসলে ভুল হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, যুক্তির কাঠামো ঠিক থাকা মানেই সেটি সত্য। এটি একটি বিশাল ভুল ধারণা। চলুন 'বৈধতা' বা Validity-কে একটু গভীরভাবে বুঝি।

ধরুন আমি একটি যুক্তি দিলাম:

  • প্রস্তাবনা : ড্যাফি ডাক একটি হাঁস। (সত্য)
  • প্রস্তাবনা : সমস্ত হাঁস স্তন্যপায়ী প্রাণী। (মিথ্যা, কারণ হাঁস ডিম পাড়ে)
  • সিদ্ধান্ত: সুতরাং, ড্যাফি ডাক একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী।

[হোস্ট একটু পজ দেবেন]

এখন বলুন তো, এই যুক্তিটি কি বৈধ (Valid)? অবাক হবেন না, উত্তর হলোহ্যাঁ, এটি একটি বৈধ যুক্তি!

কেন? কারণ বৈধতা মানে সত্যতা নয়। বৈধতা মানে হলো—"যদি" প্রস্তাবনাগুলো সত্য হতো, তবে সিদ্ধান্তটি কি সত্য হতো? এখানে, যদি সব হাঁস স্তন্যপায়ী হতো, তবে ড্যাফি ডাকও স্তন্যপায়ী হতো। যুক্তির স্ট্রাকচার ঠিক আছে।

কিন্তু সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলো, আমাদের প্রস্তাবনা বাস্তবে মিথ্যা। তাই যুক্তিটি 'বৈধ' হলেও, এটি 'যথার্থ' (Sound) নয়। আমরা প্রায়ই তর্কের সময় এমন বৈধ কিন্তু মিথ্যা যুক্তির ফাঁদে পা দিই।

তাহলে যথার্থ যুক্তি দেখতে কেমন হয়?

আমরা শুধু বৈধ যুক্তি চাই না, আমরা চাই 'যথার্থ' বা Sound যুক্তি। একটি যুক্তি তখনই যথার্থ হয় যখন এটি দুটি শর্ত পূরণ করে: . এটির কাঠামো বৈধ হতে হবে। . এর প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবেও সত্য হতে হবে।

আসুন একটা পারফেক্ট উদাহরণ দেখি:

  • প্রস্তাবনা : সমস্ত খরগোশ স্তন্যপায়ী প্রাণী। (এটি বাস্তবে সত্য)
  • প্রস্তাবনা : বাগস বানি একটি খরগোশ। (এটিও সত্য)
  • সিদ্ধান্ত: সুতরাং, বাগস বানি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী।

দেখুন, এখানে যদি প্রস্তাবনাগুলো সত্য হয়, তবে সিদ্ধান্ত সত্য হতে বাধ্য (তাই এটি বৈধ) এবং বাস্তবেও এই প্রস্তাবনাগুলো সত্য। তাই এই যুক্তিটি 'যথার্থ' বা Sound

একজন স্মার্ট চিন্তাবিদ সবসময় শুধু বৈধতা নয়, যথার্থতা খোঁজেন। আপনার প্রতিপক্ষের যুক্তির স্ট্রাকচার ঠিক থাকতে পারে, কিন্তু তার দেওয়া তথ্যগুলো কি সত্য? সেটা যাচাই করাই আসল খেলা।

এখন প্রশ্ন হলো, এই যুক্তিগুলো আমরা কীভাবে তৈরি করি? এর কি কোনো প্রকারভেদ আছে? হ্যাঁ, আছে।

যুক্তি বিজ্ঞান প্রধানত দুই ধরনের যুক্তির কথা বলে। প্রথমটি হলো Deductive Argument বা অবরোহ যুক্তি।

একে বলা হয় "নিশ্চয়তার যুক্তি" এখানে আমরা একটি সাধারণ নিয়ম থেকে শুরু করি এবং একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় এসে পৌঁছাই। যদি আপনার সাধারণ নিয়মটি সত্য হয়, তবে আপনার সিদ্ধান্ত ১০০% নিশ্চিতভাবে সত্য হবে।

সবচেয়ে ক্লাসিক উদাহরণটা দেখা যাক:

  • সাধারণ নিয়ম (প্রস্তাবনা ): সকল মানুষ মরণশীল।
  • নির্দিষ্ট ঘটনা (প্রস্তাবনা ): কলিমুদ্দীন একজন মানুষ।
  • সিদ্ধান্ত: অতএব, কলিমুদ্দীন মরণশীল।

এখানে সিদ্ধান্তের সঠিকতা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এটি একটি প্রমাণিত সত্য বা Valid Reasoning গণিত এবং জ্যামিতিতে এই ধরনের যুক্তি বেশি ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু বাস্তব জীবনে আমাদের কাছে সবসময় সাধারণ নিয়ম থাকে না। তখন আমরা কী করি? তখন আমরা ব্যবহার করি দ্বিতীয় প্রকারের যুক্তি।

দ্বিতীয় প্রকার হলো Inductive Argument বা আরোহী যুক্তি।

এটি হলো "সম্ভাবনার যুক্তি" এখানে আমরা নির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ বা পর্যবেক্ষণ দেখে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। এই সিদ্ধান্তটি ১০০% নিশ্চিত নয়, তবে এটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতি খুব ব্যবহার করেন। উদাহরণ দিই:

ধরুন, আপনি জীবনে এই পর্যন্ত যত কাক দেখেছেন, তার সবই কালো রঙের। আপনি হয়তো এক হাজারটি কাক দেখেছেন।

  • পর্যবেক্ষণ: এই এক হাজারটি কাক কালো।
  • সিদ্ধান্ত: সুতরাং, পৃথিবীর সব কাকই সম্ভবত কালো।

লক্ষ্য করুন, আমি বলেছি "সম্ভবত" কারণ, আগামীকাল যদি আপনি একটি সাদা কাক দেখে ফেলেন, তবে আপনার এই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হবে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই এই আরোহী যুক্তির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া। এটি আমাদের নতুন জ্ঞান তৈরি করতে সাহায্য করে, কিন্তু মনে রাখতে হবেএতে সবসময় ভুলের একটি ছোট সম্ভাবনা থেকে যায়।

আমরা সঠিক যুক্তি শিখলাম। এবার সময় এসেছে শত্রুকে চেনার। কুযুক্তি বা Fallacy

কুযুক্তি বা Fallacy হলো যুক্তির নামে প্রতারণা। এগুলো দেখতে যুক্তির মতো, কিন্তু ভেতরে ফাঁপা। আজকে আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি কুযুক্তি চিনব, যা আপনি প্রতিদিন ফেসবুকে দেখেন।

প্রথমটি হলো: ব্যক্তি-আক্রমণাত্মক কুযুক্তি (Ad Hominem)

যখন কেউ যুক্তির জবাব যুক্তিতে দিতে পারে না, তখন সে বক্তাকে আক্রমণ করা শুরু করে।

ধরুন, একজন ডাক্তার বলছেন, "ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।" উত্তরে একজন ধূমপায়ী বললেন, "আরে রাখেন আপনার কথা! আপনি তো নিজেই কালকে লুকিয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। আপনার মুখে এসব কথা মানায় না।"

খেয়াল করুন, ডাক্তার নিজে ধূমপান করেন কি না, তার সাথে ধূমপানে ক্যান্সার হওয়ার বৈজ্ঞানিক সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ডাক্তারের যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলো। এটি একটি ক্লাসিক কুযুক্তি। তর্কে জেতার জন্য এটি খুব নোংরা একটি কৌশল।

দ্বিতীয় কুযুক্তিটি হলো: প্রাধিকারের কুযুক্তি (Appeal to Authority)

"এটা সত্য, কারণ অমুক বড় বিজ্ঞানী বা তমুক বড় হুজুর বলেছেন।" মনে রাখবেন, কেবল কোনো বিশেষজ্ঞ বলেছেন বলেই কোনো কিছু সত্য হয়ে যায় না। তিনি কেন বলেছেন, তার পেছনে কী প্রমাণ আছেসেটাই আসল। প্রমাণ না দেখিয়ে শুধু ব্যক্তির দোহাই দেওয়া একটি দুর্বল যুক্তি।

তৃতীয়টি খুব মজার: বৃত্তাকার কুযুক্তি (Circular Reasoning)

এখানে যা প্রমাণ করতে চাওয়া হয়, তাকেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। যুক্তিটি একটি বদ্ধ চক্রে ঘুরতে থাকে। উদাহরণ: "আমাদের ধর্মগ্রন্থটি সত্য। কারণ, ধর্মগ্রন্থেই লেখা আছে যে এটি সত্য।"

এখানে ধর্মগ্রন্থের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য সেই ধর্মগ্রন্থকেই সাক্ষী মানা হচ্ছে। বাইরে থেকে কোনো স্বাধীন প্রমাণ আনা হচ্ছে না। এটি আসলে কোনো যুক্তিই দাঁড় করায় না, শুধু একই কথা ঘুরিয়ে বলে।

আমরা যুক্তির ধরণ কুযুক্তি শিখলাম। এবার আসুন, এই টুলগুলো ব্যবহার করে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি।

আমরা এখন যে যুক্তিগুলো শিখলামবৈধতা এবং যথার্থতাসেগুলো ব্যবহার করে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে দার্শনিকরা কীভাবে বিতর্ক করেন, তার একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ দেখব। আমরা এখানে কোনো পক্ষ নিচ্ছি না, শুধু যুক্তির কাঠামোটি দেখছি।

ধরুন, একজন নাস্তিক (Atheist) বা যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তিনি একটি যুক্তি দিচ্ছেন। তাদের একটি জনপ্রিয় যুক্তি হলো "অপর্যাপ্ত প্রমাণের যুক্তি" (Insufficient Evidence Argument)

তাদের যুক্তির কাঠামোটি এমন:

  • প্রস্তাবনা (P1): যেকোনো দাবিকে সত্য বলে মেনে নিতে হলে তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। (এটি একটি সাধারণ নীতি)
  • প্রস্তাবনা (P2): 'ঈশ্বর আছেন'—এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক বা পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। (এটি তাদের পর্যবেক্ষণ)
  • সিদ্ধান্ত (C): তাই 'ঈশ্বর আছেন'—এই দাবিকে মেনে নেওয়া যৌক্তিক নয়।

বিশ্লেষণ: এই যুক্তিটি কি বৈধ (Valid)? হ্যাঁ। যদি P1 এবং P2 সত্য হয়, তবে সিদ্ধান্তটি স্বাভাবিকভাবেই আসে। কিন্তু এটি কি যথার্থ (Sound)? এখানে বিতর্ক শুরু হয়। একজন বিশ্বাসী মানুষ P2-কে চ্যালেঞ্জ করবেন। তিনি বলবেন, "প্রমাণ আছে, আপনি হয়তো তা দেখতে পাচ্ছেন না।"

অন্যদিকে, একজন অজ্ঞেয়বাদী (Agnostic)—যিনি বলেন ঈশ্বর আছে কি নেই তা আমরা জানি নাতার যুক্তিটি অন্যরকম।

অজ্ঞেয়বাদীদের যুক্তি হলো "মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা" (Limits of Human Knowledge Argument)

  • প্রস্তাবনা : মানুষের জ্ঞান এবং ইন্দ্রিয় খুবই সীমাবদ্ধ (আমরা মহাবিশ্বের মাত্র % জানি)
  • প্রস্তাবনা : ঈশ্বরের মতো কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তার অস্তিত্ব থাকা বা না থাকার বিষয়টি মানুষের এই সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরে।
  • সিদ্ধান্ত: তাই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে ঈশ্বর আছেন নাকি নেই।

এই যুক্তিটিও লজিক্যালি বৈধ। এবং এর প্রস্তাবনাগুলোও বেশ শক্তিশালী বা Plausible

দেখুন, এই জটিল বিষয়গুলোতে যুক্তি বিজ্ঞান আমাদের বলে না যে কোনটা পরম সত্য। বরং এটি আমাদের শেখায় কীভাবে এই বিতর্কগুলো ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করতে হয়, কোথায় আবেগের ব্যবহার হচ্ছে আর কোথায় প্রমাণের।

যুক্তি বিজ্ঞান বা লজিক মূলত গণিত, দর্শন এবং কম্পিউটার সায়েন্সের ভিত্তি। কিন্তু এর আসল ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে অশুদ্ধ চিন্তা থেকে শুদ্ধ চিন্তাকে আলাদা করতে হয়।

আমরা ভিডিওর একদম শেষে চলে এসেছি।

আমরা শিখলাম, যুক্তি মানে শুধু তর্কে জেতা নয়। যুক্তি হলো সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর একটি নিরন্তর প্রচেষ্টা। আমরা শিখলাম, একটা কথা শুনতে ভালো লাগলেই তা সত্য হয় নাতা সংগতিপূর্ণ, বৈধ এবং যথার্থ হতে হয়। আমরা শিখলাম কীভাবে কুযুক্তির ফাঁদগুলোযেমন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চক্রাকার যুক্তিএড়িয়ে চলতে হয়।

আমার শেষ কথাটি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ আছে। একদল, যারা অন্যের তৈরি করা যুক্তি বা কুযুক্তি অন্ধভাবে মেনে নিয়ে জীবন পার করে দেয়। তারা অন্যের সিদ্ধান্তে নিজের জীবন চালায়। আর একদল, যারা প্রশ্ন করতে জানে। যারা জানে কীভাবে একটা তথ্যকে যুক্তির ছাঁকনিতে ফেলে যাচাই করতে হয়। যারা নিজেদের সিদ্ধান্তের মালিক নিজেরাই হয়।

আপনি কোন দলে থাকতে চান?

যদি দ্বিতীয় দলে থাকতে চান, তবে আজ থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করুন। পরের বার যখন কেউ ফেসবুকে কোনো গরম খবর দেবে, বা কোনো নেতা আবেগী ভাষণ দেবেএক মুহূর্তের জন্য থামুন। এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন: "এই কথাটি কি Valid? এটি কি Sound? নাকি এটি কেবলই একটি চতুর Fallacy?"

আপনার যুক্তিবাদী মনের যাত্রা শুভ হোক। দেখা হবে পরের ভিডিওতে।


 


No comments

Powered by Blogger.